বাঙ্গালী বিরোধী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কৃতিত্ব......

 বাঙ্গালী বিরোধী শেখ মুজিবর রহমান। যাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বঙ্গবন্ধু বলা হয়। আমাদের ভারতবর্ষে কিছু অল্পবুদ্ধি সম্পন্ন বাঙ্গালীরা মুজিবরকে বাঙ্গালীর উদ্ধার কর্তা বলতে সংকুচ বোধ করেনা।   উল্লেখ্য যে যখন দেশ ভাগ হয়েছিল সেই সময় মুজিবর রহমান "বেঙ্গল মুসলীম ছাত্রলিগ" এর সদস্য ছিল। সেই মুসলীম লিগ যার ডাইরেক্ট একশনে দেশের লক্ষাদিক হিন্দু ,বৌদ্ধ,জৈন এবং শিখেরাপ্রাণ হারিয়েছে।  ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন।



   
                  চিত্র - শেখ মুজিবর রহমান।


                      চিত্র -হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ও শেখ মুজিবর রহমান।

শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকে। ঐ বছরই বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন তদানীন্তন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং খাদ্যমন্ত্রী ও পরবর্তীকালে বাংলা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী। ঐ সময় বিদ্যালয়ের ছাদ সংস্কারের দাবি নিয়ে একটি দল তাদের কাছে যায়। দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শেখ মুজিব স্বয়ং।ব্যক্তিগত রেষারেষির জেরে ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রথমবারের মতো গ্রেফতার করা হয়। ৭ দিন হাজতবাস করার পর তিনি ছাড়া পেয়ে গোপালগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা  ডিফেন্স কমিটির  ফেডারেশনে যোগ দেন। 

১৯৪১ সালে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে কাজী নজরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ প্রমুখ যোগদান করেন। শেখ মুজিব এই সম্মেলনের অন্যতম আয়োজক ছিলেন। ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে মুজিব ম্যাট্রিকুলেশন (এনট্র্যান্স) পাশ করারপরে ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন এবং এখানে পড়াশোনাকালীন তিনি বাংলার অগ্রণী মুসলিম নেতা হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর সংস্পর্শে আসেন। এম. ভাস্কর তাকে সোহ্‌রাওয়ার্দীর ছাত্রতলে রাজনীতির উদীয়মান বরপুত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
একই বছর কলকাতায় ছাত্রনেতা আবদুল ওয়াসেক প্রমুখের নেতৃত্বে হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।
ঐ সময় থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বেঙ্গল মুসলিম লীগে যোগ দেন। এখানে তার ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য বিষয় ছিল পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। 



১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের পর মুসলিম লীগ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য মাঠে নেমে পড়ে। মুসলিম লীগের তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিব এ সময় পাকিস্তান আন্দোলনে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন।
 “পাকিস্তান দাবির পক্ষে গণভোট” খ্যাত ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে শেখ মুজিব বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে লীগের ওয়ার্কার ইনচার্জ হিসেবে একনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে, সাধারণ কৃষক সমাজের কাছে গিয়ে তিনি পাকিস্তান দাবির ন্যায্যতা প্রচার করে ভোট চান। এই নির্বাচনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোতে মুসলিম লীগ বিজয় লাভ করে। তবে একমাত্র বাংলায় তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সোহ্‌রাওয়ার্দীর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়।

১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই আগস্ট প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসপালনের সময় কলকাতায় ভয়ানক হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। এসময় মুজিব মুসলিমদের রক্ষা এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক তৎপরতায় শরিক হন।
সেই সময় সোহ্‌রাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, শরৎচন্দ্র বসু প্রমুখের নেতৃত্বে ভারত ও পাকিস্তান কর্তৃত্বের বাইরে অবিভক্ত স্বাধীন বাংলাগঠনের যে “যুক্তবঙ্গ আন্দোলন” সংগঠিত হয়, শেখ মুজিব তাতেও যুক্ত হন।
পরবর্তীকালে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি নিশ্চিত হয়ে গেলে আসাম প্রদেশের বাঙালি মুসলমান অধ্যুষিত সিলেট জেলার ভাগ্য নির্ধারণেয় গণভোট হয়। শেখ মুজিব সিলেট গণভোটে পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সংগঠক ও প্রচারক হিসেবে কাজ করেন। তিনি এসময় প্রায় ৫০০ জন কর্মী নিয়ে কলকাতা থেকে সিলেট গিয়েছিলেন। গণভোটে জয়লাভ সত্ত্বেও করিমগঞ্জ পাকিস্তানে না আসায় এবং দেশভাগের সীমানা নির্ধারণের সময় পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন ভৌগোলিক অপ্রাপ্তির বিষয়ে তিনি তার আত্মজীবনীতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আসামের করিমগঞ্জ জেলায় ভোটে জয়ের পরেও সেই করিমগঞ্জ পূর্ব পাকিস্থানের অংশ না হবার করণেও উনি তার আত্মজীবনীতে ক্ষোভ প্রকাশ করে গেছেন।

যে দেশ ভাগের ফলে বাঙ্গালীর সর্বস্ব ধ্বংস হয়েছে।
প্রাণ, জমি - মাটি ,সন্মান গেছে সেই দেশ ভাগের পক্ষে ছিল মুজিবর রহমান বর্তমান বাংলাদেশে যিনি বঙ্গবন্ধু নামে  পরিচিত।
সেই মুজিব কখনোই বাঙ্গালীর উদ্ধার কর্তা হতে পরেনা।


      চিত্র - দেশ ভাগের সময়।

হিন্দুবাঙ্গালীর দূর্ভোগের কারণ শেখ মুজিবর রহমান

Popular posts from this blog

Vidisha के Vijay Temple की तरह हूबहू दिखता है नया संसद भवन....

স্ত্রীর খুনের রক্ত দিয়ে কাস্তে হাঁতুড়ির চিত্র আর্ট করল স্বামী।

মধ্যপ্রদেশে লাভজেহাদ ও ধর্মান্তকরণ বিরোধী আইনে কি কি থাকছে সংক্ষেপে দেখুন................